$type=ticker$count=12$cols=4$cate=0

হলফ করে মিথ্যা বলার রাজনীতির ভবিষ্যত

আমরা জাতি হিসেবে এতটাই হতভাগা যে আমরা যারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশ চালনার জন্য যাদেরকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করি তারা এতটাই নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ যে, হলফনামা করেও তারা মিথ্যা কথা বলেন। সত্য বলার সাহস তাদের নেই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক সকল দলের মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সাথে একজন প্রার্থীকে প্রথম শ্রেণীর  ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শপথ করে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়, সম্পদ, মামলাসহ মোট আটটি তথ্য দিয়ে ২০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি হলফনামা সম্পাদনপূর্বক জমা দিতে হয়। হলফনামায় বলা হয় ‘আমি শপথ করে বলছি, এই হলফনামায় দেওয়া যাবতীয় তথ্য এবং দাখিল করা সব ধরনের দলিল-দস্তাবেজ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে সম্পূর্ণ সত্য ও নির্ভুল।’ 
সাধারণত হলফনামা আদালতসহ প্রয়োজনীয় সব জায়গায় ব্যবহৃত হয় এবং এটাকে সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়।এবার নির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সাথে প্রদত্ত হলফনামায় সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন তা নিয়ে রীতিমত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে হৈচৈ শুরু হয়েছে।প্রার্থীরা হলফনামায় তাঁদের আয়, সম্পদ পেশার সঠিক তথ্য দেননি। তাঁরা তথ্য গোপন করেছেন, অনেকে মিথ্যা তথ্যও দিয়েছেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার প্রশ্ন, পাঁচ বছর আগে একেকজন সংসদ সদস্য তাঁর হলফনামায় আয় ও সম্পদের যে তথ্য দিয়েছেন, পাঁচ বছর পর হুবহু একই তথ্য কিভাবে দেন? এ ছাড়া পাঁচ বছর আগে একজন এমপি কিংবা মন্ত্রীর যে পরিমাণ আয় ও সম্পদ ছিল, পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেটি কয়েক গুণ বাড়ে কিভাবে? যখন একজন স্বনামধন্য বড় ব্যবসায়ি বা স্বনামখ্যাত কোন রাজনীতিবীদ তার হলফনামায় উল্লেখ করেন যে, তার নিজস্ব কোন বাড়ি গাড়ি নেই। স্বর্ণালঙ্কার নেই এমনকি নগদ কোন অর্থও নেই। স্ত্রীর বাড়িতে থাকেন বা গাড়িতে চড়েন। তখন বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে হোচট খেতে হয় বৈকি! অবাক হতে হয় এই ভেবে যে, আমরা যাদেরকে দেশ চালনার জন্য নির্বাচিত করি সেই সব মহান সাংসদরা হলফ বা শপথ করেও সত্য কথা বলেন না। ভাবতে হয় আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নীতি নৈতিকতা কতটা তলানীতে গিয়ে পৌছেছে। একজন সাংসদের সংসদ সদস্য হওয়ার আগে কি পরিমাণ সম্পদ ছিল এবং সাংসদ হওয়ার পরে কি পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তা জানার অধিকার নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের আছে। জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পরে পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের জনগণ এটা  জানতে পারেন না যে কত মহৎ ব্যক্তিকে তারা ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু সেই মনোনয়নপত্রের হলফনামায় যদি প্রকৃত সত্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হয় তাহলে আমাদের রাজনীতির ভবিষ্যত যে অন্ধকার সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই।



দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন দিনমজুরও কোন চিন্তা ভাবনা না করেই বলে দিতে পারেন যে রাজনীতি এখন অত্যন্ত লাভজনক একটা ব্যবসা। আগেকার দিনে যদিও রাজনীতিকে একটি জনসেবামূলক কাজ হিসেবে মনে করা হতো এবং সেই সময় নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে রাজনীতিবীদরা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। কিন্ত বর্তমানে রাজনীতির মত লাভজনক অন্য কোন ব্যবসা বর্তমানে আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন ধারণা  বদ্ধমূল হয়েছে যে, রাজনীতি করলে গাড়ি বাড়ির মালিক হওয়া যায়, ক্ষমতা পাওয়া যায়, চাকরী পাওয়া যায় কিংবা অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া যায়। জনগণের এই ধারণা অমূলক নয় কিংবা এই ধারণা যে রাতারাতি তৈরী হয়েছে তাও কিন্তু নয়। বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক কিচ্ছা কাহিনী মানুষের মনে এই ধারণার জন্ম দিয়েছে।

আমরা জাতি হিসেবে এতটাই হতভাগা যে আমরা যারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশ চালনার জন্য যাদেরকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করি তারা এতটাই নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ যে, হলফনামা করেও তারা মিথ্যা কথা বলেন। সত্য বলার সাহস তাদের নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের অনেকেরই কৃষি ও মৎস্য খাতে ঝোঁক রয়েছে। অনেকে এসব খাত থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আবার কেউ কেউ কৃষি ও মৎস্য খাতে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এমনকি ঢাকার অনেক এমপি প্রার্থীরও কৃষি, মৎস্য ও পোলট্রি খাতে বিনিয়োগ ও আয় রয়েছে। বাস্তবতা কি তা বলে? এমপিরা কি সাধারণত কৃষি কাজ করার সময় পান? বাস্তবে কি কৃষি কাজ এত লাভজনক? 

দেশের জনগণ দেশ চালনার জন্য তাদের মনোনীত বা পছন্দমত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করেন। আইন বলে সাংসদরা হলেন জনগণের প্রতিনিধি। একজন প্রতিনিধি তার মালিকের পক্ষে লড়বেন, মালিকের পক্ষে কথা বলবেন, মালিকের সেবা করবেন, মালিকের পছন্দমত কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে কি সাংসদরা জনগণের পছন্দমত কাজ করেন? জনগণের চাওয়া পাওয়ার মূল্যায়ন করেন? জনগণের সুখ দুঃখের খবর রাখেন? ক্ষমতা হস্তগত হওয়ার পর থেকে চলে ক্ষমতার লড়াই। অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রচেষ্টা। কোন কাজ করলে অর্থ আসবে সেই সব নিয়ে চিন্তা করা। জনগণের চিন্তা করার সময় তাদের হয় না।

দল থেকে যাদেরকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয় শুধুমাত্র তাদেরকেই সাধারণ জনগণ ভোট দিতে পারে। আর যাদের পেশি শক্তি আছে। অর্থ বিত্ত আছে। তাদেরকেই বর্তমানে মনোনয়নপত্র প্রদান করা হয়। নিজেদের পছন্দমত কোন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে সম্ভব নয়। দলীয় সব প্রার্থীর মধ্য থেকে জনগণকে মন্দের ভালো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে এই সব প্রার্থীরা যে জনগণের আশা আকাঙ্খা মেটাতে এগিয়ে আসবে না সেটা এই দেশের জনগণ জানে। তবুও আশায় বুক বেধে জনগণ তাদের এলাকার সাংসদকে নির্বাচিত করেন। আর  এই নির্বাচিত সাংসদরা ক্ষমতার মসনদে বসার পর জনগণকে ভুলে যান। নিজের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পত্র পত্রিকার খবর দেখে রাষ্ট্রের অতি ক্ষুদ্র একজন নাগরিক হিসেবে আমি এটা ভেবে অনেক কষ্ট পাচ্ছি যে যাদেরকে আমরা আমাদের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবো সেই প্রতিনিধি এমন একজন ব্যক্তি যিনি শপথ বা হলফ করেও মিথ্যা কথা বলেন। এমন মনোনীত প্রতিনিধির নিকট থেকে জাতি হিসেবে আমরা ভাল কি ্পাব সেই ভেবেই আজ সন্দিহান হতে হয়।


পোস্টটি লিখেছেন-এডভোকেট আজাদী আকাশ।      
সুপ্রিয় পাঠক, পোস্টটি সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থাকলে নিচে মন্তব্যের ঘরে জানাতে পারেন। এছাড়া আমাদের ব্লগে লিখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

COMMENTS

BLOGGER
নাম

অদ্ভুতুড়ে টক,2,অর্থ ও বাণিজ্য,3,আইন আদালত,20,আইন যোদ্ধা,1,আইন শৃঙ্খলা,1,আদালতে হাতেখড়ি,5,আফসার হাসান,2,ইতিহাস ও ঐতিহ্য,3,ইসলাম,2,ঈমান,1,উপন্যস,2,এডভোকেট আজাদী আকাশ,55,এডভোকেট আনিসুর রহমান,1,এডভোকেট খোরশেদ আলম,1,এন্ড্রয়েড,1,কবিতা,16,কাজী নজরুল ইসলাম,2,খেলাধুলা,1,গল্প,8,জীবনানন্দ দাস,1,তাবলীগ জামাত,1,তৈমূর আলম খন্দকার,6,দেওয়ানী আইন,9,ধর্মীয় টক,9,নারী অধিকার,1,নির্বাচন,3,নির্বাচিত টক,14,নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী,1,প্রকৃতি,1,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,1,ফৌজদারি আইন,15,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,6,বিনোদন,2,বিবাহ,1,বিশেষ টক,7,ব্লগ,1,ভ্রমণ টক,2,মুক্ত টক,1,মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম,1,যৌতুক,1,যৌন নির্যাতন,1,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,3,রম্যরচনা,1,রাজনীতি,11,রীট,1,রুদ্র রায়হান,9,রুবেল রানা,1,রেসিপি,2,লাইফস্টাইল,2,শিক্ষা,4,সম্পাদকীয় টক,16,সাহিত্য,19,সুকুমার রায়,3,স্বাস্থ্য টক,3,
ltr
item
Talkative Bangla- এসো বাংলায় মাতি উল্লাসে | বাংলা সোস্যাল ব্লগ সাইট : হলফ করে মিথ্যা বলার রাজনীতির ভবিষ্যত
হলফ করে মিথ্যা বলার রাজনীতির ভবিষ্যত
আমরা জাতি হিসেবে এতটাই হতভাগা যে আমরা যারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশ চালনার জন্য যাদেরকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করি তারা এতটাই নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ যে, হলফনামা করেও তারা মিথ্যা কথা বলেন। সত্য বলার সাহস তাদের নেই।
https://2.bp.blogspot.com/-U2JOoWlYHA4/XAUdMMx8PwI/AAAAAAAABCo/uRuukknWXwEeG5u3Z2D_2FA0Z4b_oaw2ACPcBGAYYCw/s1600/talkativebangla1.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-U2JOoWlYHA4/XAUdMMx8PwI/AAAAAAAABCo/uRuukknWXwEeG5u3Z2D_2FA0Z4b_oaw2ACPcBGAYYCw/s72-c/talkativebangla1.jpg
Talkative Bangla- এসো বাংলায় মাতি উল্লাসে | বাংলা সোস্যাল ব্লগ সাইট
https://www.talkativebangla.com/2018/12/editorial-politics-election-nomination.html
https://www.talkativebangla.com/
https://www.talkativebangla.com/
https://www.talkativebangla.com/2018/12/editorial-politics-election-nomination.html
true
4497219040230755502
UTF-8
সকল পোস্ট লোড হয়েছে কোন পোস্ট পাওয়া যায়নি সব দেখুন বিস্তারিত পড়ুন Reply Cancel reply Delete By প্রথম পাতা বাকিটুকু পরবর্তী পাতায় দেখুন POSTS সব দেখুন আপনার জন্য আরও টক টক বিভাগ ARCHIVE আপনি খুজছেন সকল টক আপনার অনুরোধ অনুযায়ী কোন পোস্ট পাওয়া যায়নি। দয়া করে অন্যভাবে চেষ্টা করুন অথবা প্রথম পাতায় ফিরুন Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy