$type=ticker$count=12$cols=4$cate=0

খুটি ওয়ালাদের জন্য বাংলাদেশ একটি স্বর্গরাজ্য

রনে বনে প্রেমের কোন নীতি বা ধর্ম নাই। রনে (যুদ্ধে) জয় লাভের জন্য যা করা দরকার তাই তখনকার ধর্ম, বনে (জঙ্গলে) বেচে থাকার প্রয়োজনে যা করা দরক...

রনে বনে প্রেমের কোন নীতি বা ধর্ম নাই। রনে (যুদ্ধে) জয় লাভের জন্য যা করা দরকার তাই তখনকার ধর্ম, বনে (জঙ্গলে) বেচে থাকার প্রয়োজনে যা করা দরকার তাহাই ধর্ম এবং প্রেমে আত্মতৃপ্তি পাওয়াই ধর্ম।
বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। ধর্ম নিয়ে মানুষের যত কথা, আলোচনা, সমালোচনা, পক্ষে বিপক্ষে দীর্ঘ দিনের। ধর্মের রকম ভেদের অভাব নেই। ধর্মে বিশ্বাস করে না এমন মানুষের সংখ্যাকে একদম নগন্য বলা যাবে না, তবে তারা বিকশিত হতে পারছে না এ কারণে যে তাদের হাতে কাট্য প্রমাণ নেই, যা আছে তা তাদের নিজস্ব মতবাদ হিসাবে প্রচারিত। ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করা আমার এ লেখার উদ্দেশ্য নহে, বরং ধর্ম কি তাহাই জানার চেষ্টা করবো। 
অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার। ছবি: সংগৃহিত
মানুষ সৃষ্টিকর্তার মনোনীত ধর্ম পালন করে, অনেকে পালন করে না, আবার অনেকে ধর্ম বিশ্বাসই করে না, একদল লোক রয়েছে যারা ধর্ম আছে কি নাই এ মর্মে চিন্তা ভাবনা করে না। নানা রকম ভেদে এ পৃথিবীর মানুষ। মানুষ তার নিজ ধর্ম ছাড়া অনেক কিছু করে যা ধর্মের সাথে সাংর্ঘষিক, অন্যদিকে নিজ নিজ বিশ্বাস তথা ধর্মের অনুশীলন থেকে এক চুল পরিমাণ পিছাবে না এমন মানুষের সংখ্যাও কম নহে। নিজ নিজ ধর্মেও দল, উপ-দলে বিভক্তি অনেক। এমন কোন ধর্ম নাই যেখানে অনুশারীদের মধ্যে বিভক্তি হয় নাই। ফলে এ বিভক্তিতে যুদ্ধ বিগ্রহ পর্যন্ত ঘটেছে। বিভক্তির কারণে একই মতবাদে বিশ্বাসী হওয়ার পরও একে অপরকে খুন করছে দুনিয়া ও পরকালে গৌরবান্বিত হওয়ার প্রত্যাশায়। ধর্মীয় অর্ন্তরদন্দ ও বিবাদ অনেক নির্মম ও মর্মান্তিক। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র হযরত হোসেন (রাঃ)-কে ফোরাত নদীর তীরে পানি বিহীন অবস্থার নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যা করে ছিল মুসলমান নামধারী ইয়াজিদ। হিন্দু ধর্মের মধ্যে উচু নীচু বর্ণ বিদ্দেষ অনেক বেশী। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও তার স্ত্রী সবিতা কোবিন্দ নিম্ন জাতের হিন্দু হওয়ার কারণে উবিষ্যার জগন্নাথ মন্দিরে উচ্চজাতের উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছে (সূত্র:- ভারতীয় জাতীয় পত্রিকা তাং-২৯/৬/২০১৮ ইং) খৃষ্টান ধর্ম ক্যাথলিক ও প্রটেষ্টেন্ট দুই ভাগে বিভক্ত হলেও যথেষ্ট পরিমাণ উপদল রয়েছে। জীব হত্যা মহাপাপ বৌদ্ধ ধর্মের মূল মন্ত্র। কিন্তু মিয়ানমারের বৌদ্ধরা মুসলমানদের অকাতরে হত্যা, নারীদের ধর্ষণ, লুন্ঠন ও বাড়ীঘর অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, অথচ আশ্চার্যের বিষয় এই যে, এখানে ধর্ম তাদের নিকট প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়ায় না। কার্যত: মনে হচ্ছে যে, মিয়ানমারের মুসলমানরা জীব বা প্রাণী নহে! কোন ধর্মকে ছোট করে দেখার অবকাশ নাই। তবে নিজ ধর্ম সঠিকভাবে পালন করাটাই মূখ্য উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্চনীয়।  



প্রবাদ রয়েছে যে, রনে বনে প্রেমের কোন নীতি বা ধর্ম নাই। রনে (যুদ্ধে) জয় লাভের জন্য যা করা দরকার তাই তখনকার ধর্ম, বনে (জঙ্গলে) বেচে থাকার প্রয়োজনে যা করা দরকার তাহাই ধর্ম এবং প্রেমে আত্মতৃপ্তি পাওয়াই ধর্ম। অন্য প্রবাদও রয়েছে যে, সব ধর্মই ভালোবাসার কথা বলে, কিন্তু প্রেম, ভালোবাসার কোন ধর্ম নাই, প্রেম, ভালোবাসা বড়-ছোট, জাত-বিজাত, বাদশা-ফকির মানে না। এতো গেল মানব জাতির কথা যারা পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা হিসাবে পরিচিত। শুধু মানুষই কি ধর্ম পালন করে? নাকি প্রতিটি সৃষ্টি বা প্রাণী বা বস্তুর নিজস্ব ধর্ম রয়েছে?

কাঠের ধর্ম নিজে পুড়ে, আগুনের ধর্ম অন্যকে পোড়ায়। ঐশ্বরিক ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে কুকুরের ছায়া পড়লে পবিত্রতা নষ্ট হয়। অন্যদিকে কুকুরকে কোলে নিয়ে ঘূরে বা বিছানায় জায়গা দেয় এমন একটি জনগোষ্টি রয়েছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা, কিন্তু “বিশ্বস্থতার” প্রশ্নে মানুষের চেয়ে কুকুর শ্রেষ্টতা অর্জন করেছে বেশী। কুকুর মনিবের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না, কিন্তু মানুষ বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে যার প্রমাণ রয়েছে ভ‚ড়ি ভ‚ড়ি। বিশ্বস্থতার চেয়ে বিশ্বাস ভঙ্গের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তবে বিশ্বাস ঘাতকদের পরিনতি ভালো হয় নাই। মীর জাফরের মৃত্যু হয়েছে কুষ্ঠ রোগে, তার পুত্র মীরনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে, ক্লাইভ আত্মহত্যা করে ছিল, পৃথিবী যাদের ঘৃণা ভাবে স্বরন করে। এখানে উল্লেখ্য যে, আচরণের কারণে কুকুরের চেয়ে মানুষ নিকৃষ্ট হয়ে যায়। তবে বিশ্বাস ঘাতকতা ও বিদ্রোহ এক কথা নহে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে প্রকাশ্য বিরোধীতার নাম বিদ্রোহ, অন্যদিকে সাথে থেকে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য গোপনে বিরোধীতা করার নাম বিশ্বাসঘাতকতা। দেশে দেশে, গ্রামে গঞ্জে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, এমন কি পারিবারিক পর্যায়েও চলছে বিশ্বাস ঘাতকতার হিরিক, যার পরিনাম প্রতিশোধ ও পাল্টা প্রতিশোধ, খুন আর খুন।

পুলিশ ও আমলাদের ধর্ম কি হওয়া উচিৎ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ মোতাবেক “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” এবং ২১(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক “সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।” পুলিশ ও আমলারা কি সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার মানসিকতা প্রমাণ করতে পেরেছে? মোটা দাগে পুলিশ ও প্রশাসনের ধর্ম কি, বাস্তবতার নিরিখে যদি বলতে হয় তবে এটাই এপ্রোপিয়েট (Appropriate)  যে, পুলিশ ও আমলাদের ধর্ম “শক্তের ভক্ত, নরমের জম।” আপনি যদি কোন পুলিশ বা আমলার শরনাপন্ন হন, তখন দেখবেন কত ধানে কত চাল? তখন দেখা যায় সংবিধান ও আইন কোথায় থাকে?  



জন্মসূত্রে বাংলাদেশের সকল মানুষই স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক যার মর্যাদা, সম্মান, অধিকার, প্রভৃতি সংবিধান ও আইন দ্বারা সংরক্ষিত ও নিশ্চিত। অদুপরি সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসাবে বিবেচিত। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, “আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।”

তৎস্বত্বেও কোন নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার রক্ষা বা প্রাপ্তির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোন আমলার শরনাপন্ন হয় তখনই তাকে হেনস্থা হতে হবে যদি তার টাকা দেয়ার মানসিকতা না থাকে বা মামা, খালু বা কোন আত্মীয়তার রেফারেন্স না থাকে বা যদি না সে সরকারী দলের লোক না হয়। নাগরিকের ন্যায্য অধিকার পেতে হলে খুটির জোড় থাকতে হবে, খুটির জোর বিহীন নাগরিকদের সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংবিধান ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন রাষ্ট্রীয় কর্মচারীরা তথা পুলিশ ও আমলারা দুই ভাবে প্রয়োগ করে। যার খুটির জোড় নাই আমলাতন্ত্র তাকে জুতার শুকতলী মনে করে। অন্যদিকে যার খুটির জোড় আছে তাকে একই বিষয়ে পদলেহন করে তরিৎ গতিতে চাহিদা পূরণ করে দেয়, হউক তা আইনী বা বেআইনী! অতএব, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের ধর্ম যখন যেমন তখন তেমন। একই বিষয়ে যাকে লাথি মারে, সে বিষয়ে খুটি ওয়ালাদের মাথার মুকুট বানিয়ে কুর্নিশ করে। খুটি ওয়ালা ও টাকা ওয়ালাদের জন্য বাংলাদেশ একটি স্বর্গরাজ্য, আর খুটি বিহীনদের জন্য নরক। আমলাদের এ ধর্ম উত্তরাধিকার সূত্রে বৃটিশ ও পাকিস্তান থেকে প্রাপ্ত। “স্বাধীনতা” নামক প্রতিশোধক বা স্বাধীনতার চেতনা বৃটিশ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত “ধর্ম” থেকে আমলাদের বিচ্যুতি ঘটাতে পারে নাই। 

কি আর্শ্চয এ দেশ ও জাতি। জলজান্ত ঘটনাকে কথিত বুদ্দিজীবিরা মিথ্যার আবরনে অনরগল বলে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ মিথ্যা শুনতে শুনতে হয়রান হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রতিকারের প্রত্যাশা করে না। কথিত আছে যে, এ দেশে সকল বিকাল জোয়ার ভাটা হয় বলে বাদশা জাহাঙ্গীর (যার নামানুসারে জাহাঙ্গীর নগর) ঢাকা প্রবেশ না করে মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন ষাটনল থেকে বজরা (বিলাস বহুল পানসি নৌকা) দিয়ে দিল্লীতে ফিরে গেছেন। একটু সুযোগ সুবিধার জন্য বুদ্দিজীবিদের রং পরিবর্তন, মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তর, অধিকন্তু জনগণকে বোকা মনে করে ধোকা দেয়া এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। জাতি এখন আর আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার জায়গা খুজে পাচ্ছে না। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক হয় এবং রক্ষক যখন সব কিছু নিজের মত করে গিলে ফেলার “ধর্ম” গ্রহণ করে তখন জাতি আশ্রয় নিবে কোথায়? 

গাছের জীবন আছে, একথা স্বীকৃত। পবিত্র কোরান শরীফে বলা হয়েছে যে, গাছ আল্লাহকে সেজদা করে (সূত্র:- সূরা আর রহমান, আয়াত নং-৬)। প্রায় ২০০ বৎসর পূর্বে স্যার জগদীস চন্দ্র বসু গবেষণা করে বলেছেন যে, গাছের প্রাণ রয়েছে। পানির অপর নাম জীবন, পানি মানুষের জীবন রক্ষা করে, কিন্তু পানির জীবন বা প্রাণ আছে কি না তা কেহ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন কি না জানা নাই। তবে পানির একটি নিজস্ব ধর্ম হলো পানি বিশ্বাসঘাতকতা বা প্রতারনা করে নাই যদি না পানির সাথে প্রতারনা (দূষিত) করেছে। কিন্তু সৃষ্টির সেরা মানুষের কাজই হচ্ছে প্রতারনা ও বিশ্বাস ঘাতকতা, যার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। তবে ব্যতিক্রম তো কিছু আছেই। দিন যত যাচ্ছে, মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে, বিজ্ঞান যত এগিয়ে যাচ্ছে ততই জ্যামেতিক হারে প্রতারনার রকম/আকার/পরিধি/পদ্ধতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে বিপাকে রয়েছে সরল সোজা জীবন যাপনে অভ্যস্থ মানুষগুলি। 

“ক্ষমতার” ধর্ম কি? ক্ষমতার অনেক ধরন রয়েছে, কিন্তু এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো “অন্ধত্ব।” ক্ষমতার অন্ধত্বের কারণে যার আশ্রয়দাতা হওয়ার ছিল তাহারাই হয়ে যান শ্রেষ্ট্র নির্যাতনকারী। প্রতিপক্ষকে সহ্য করতে না পারও ক্ষমতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতা খালি চোখে দেখা না গেলেও এর এ্যাকশন হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। সম্প্রতি চাকুরীর ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের যখন পুলিশের বুটের নিচে দেখা যায় তখনই বুঝতে হবে যে, ক্ষমতার ধর্ম ও রং কি ও কত প্রকার? স্বীকৃতভাবে অটোম্যান সম্রাজ্যের দাসীদের সাথে বিবাহ বর্হিভুত সম্পর্কের মাধ্যমে মুসলমান বাদশার (রাজা) সন্তান জন্ম দেয়া বা মন্দিরে সেবা দাসী যখন যৌনদাসীতে পরিনত হয় তখন কোন অপরাধ হয় না, রাজার বিরুদ্ধে কথা বললেই অপরাধ, লিখ্লেতো অপরাধের শেষ নাই, তখনই বুঝা যায় ক্ষমতার রূপ বা চেহারা কি হতে পারে, যেমনটি বুঝে ছিলেন সক্রেটিস। 



[উল্লেখ্য যে, হয্রত মুহাম্মদ (সা:) বিদায় হজ্জের ভাষণে দাস বা ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। অথচ “দীপ্ত” চ্যানেলে “সূলতান সোলায়মান” নামক একটি সিরিজে দেখা যায় যে, সূলতান সোলায়মান ও তার পূর্ব ও উত্তর সূরীরা তাদের হেরেমে অসংখ্য দাসী বা বাদী রাখতেন এবং যখন যাকে পছন্দ হতো তাকেই সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য ব্যবহার ও ভোগ করতেন যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ ইসলাম ধর্মের নীতির পরিপন্থী। অন্যদিকে দেবদাসী বা সেবা দাসী সম্পর্কে ইতিহাস পর্যালোচনা করে যতটুকু জানা যায় তা হলো, তারা মন্দিরের পৃষ্ঠপোষকতায় এক বিশেষ ধরণের বারবণিতা। ‘মনোরঞ্জনই ছিলো এই দেবদাসীদের অবশ্য কর্তব্য। এই মনোরঞ্জন রাজার রাজপুরুষদের এবং পুরোহিতদের।’ এ প্রথা নতুন নয়, যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। ভারতবর্ষে এই দেবদাসী প্রথা সবচেয়ে ব্যাপক। ভারতীয় নারী সমাজ বহু যুগ ধরে এই প্রথার প্রভাবে অত্যাচারিত। ১৯৪৭ সালে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে দেবদাসী প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আইনের সাহায্যে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভারতে দেবদাসী প্রথা আজও বিলুপ্ত হয়নি। ‘এদেরই কেউ কেউ মন্দিরে নিয়োজিত হতো দাসীরূপে। এছাড়া কিনচিত মূল্যে কিনে বা বলপ্রয়োগে এদের সংগ্রহ করা হতো। অথবা রাজভয়ে গৃহস্থরা মেয়েদের দাসীরূপে নিবেদন করত মন্দিরে।’ ‘বেশ্যাবৃত্তিকে স্বাধীনবৃত্তিরূপে প্রতিষ্ঠা করার পিছনে দেবদাসীবৃত্তিই সর্বপ্রথম প্রচেষ্টা। মন্দিরবাসীরা যে কার্যত: পুরোহিতদের মনোরঞ্জন করতেন সে সন্বদ্ধে ইতিহাসে বহুবিধ তথ্য প্রমাণ আছে (সূত্র:- আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজা প্রনীত ‘বজ্রকলম’ এর পৃষ্ঠা নং-১৭৮)]।        

রাজনিতিক, কর্ণধার, সুশীল সমাজ, নেতা, পাতি নেতাদের মঞ্চের বক্তব্য ও ব্যক্তিজীবন মিলিয়ে দেখলে দেখা যাবে আকাশ পাতাল ফারাক। অনেক ক্ষেত্রে মঞ্চের বক্তব্যে যতটুকু শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়, ব্যক্তি চরিত্র জানতে পারলে তার চেয়ে বেশী ঘৃনা জন্মে। 

ধর্মের সাথে প্রকৃতির সামানজস্যতা রয়েছে। শুধু “প্রকৃতি” এবং একমাত্র প্রকৃতিই ধর্ম পরিবর্তন করে না। প্রকৃতি দয়া করে, লালন পালন করে, কিন্তু প্রকৃতির ধর্ম কঠিনভাবে প্রতিশোধ নেয়া, “প্রকৃতি” প্রতিশোধ পরায়ন এবং প্রতিশোধ গ্রহণে অত্যান্ত তৎপর। প্রকৃতিকে “ইট” দিয়ে আঘাত করলে “পাটকেল” দিয়ে জবাব দেয়, তাও খুব নির্মম ভাবে। “প্রকৃতি” নিষ্ঠুরভাবে প্রতিশোধ নেয় মানুষের কর্মফলের।  

পোস্টটি লিখেছেন- তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।       
সুপ্রিয় পাঠক, পোস্টটি সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থাকলে নিচে মন্তব্যের ঘরে জানাতে পারেন। এছাড়া আমাদের ব্লগে লিখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

COMMENTS

BLOGGER
নাম

অদ্ভুতুড়ে টক,2,অর্থ ও বাণিজ্য,3,আইন আদালত,22,আইন যোদ্ধা,1,আইন শৃঙ্খলা,1,আদালতে হাতেখড়ি,5,আফসার হাসান,2,ইতিহাস ও ঐতিহ্য,3,ইসলাম,2,ঈমান,1,উপন্যস,2,এডভোকেট আজাদী আকাশ,57,এডভোকেট আনিসুর রহমান,4,এডভোকেট খোরশেদ আলম,1,এন্ড্রয়েড,1,কবিতা,19,কাজী নজরুল ইসলাম,2,খেলাধুলা,1,গল্প,8,জীবনানন্দ দাস,1,তাবলীগ জামাত,1,তৈমূর আলম খন্দকার,6,দেওয়ানী আইন,9,ধর্মীয় টক,9,নারী অধিকার,1,নির্বাচন,3,নির্বাচিত টক,14,নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী,1,প্রকৃতি,1,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,1,ফৌজদারি আইন,16,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,6,বিনোদন,2,বিবাহ,1,বিশেষ টক,7,ব্লগ,1,ভ্রমণ টক,2,মুক্ত টক,1,মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম,1,যৌতুক,1,যৌন নির্যাতন,1,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,3,রম্যরচনা,1,রাজনীতি,11,রীট,1,রুদ্র রায়হান,9,রুবেল রানা,1,রেসিপি,2,লাইফস্টাইল,2,শিক্ষা,4,সম্পাদকীয় টক,16,সাহিত্য,22,সুকুমার রায়,3,স্বাস্থ্য টক,4,
ltr
item
Talkative Bangla- এসো বাংলায় মাতি উল্লাসে | বাংলা সোস্যাল ব্লগ সাইট : খুটি ওয়ালাদের জন্য বাংলাদেশ একটি স্বর্গরাজ্য
খুটি ওয়ালাদের জন্য বাংলাদেশ একটি স্বর্গরাজ্য
https://3.bp.blogspot.com/-A4kPA8rJGGc/XDOMAsCmR-I/AAAAAAAABWw/iC5_77sAFewDt-lMcBTXQ851FnHoILiggCPcBGAYYCw/s1600/talkative%2Bbangla.jpg
https://3.bp.blogspot.com/-A4kPA8rJGGc/XDOMAsCmR-I/AAAAAAAABWw/iC5_77sAFewDt-lMcBTXQ851FnHoILiggCPcBGAYYCw/s72-c/talkative%2Bbangla.jpg
Talkative Bangla- এসো বাংলায় মাতি উল্লাসে | বাংলা সোস্যাল ব্লগ সাইট
https://www.talkativebangla.com/2019/01/politics-and-religious-talk.html
https://www.talkativebangla.com/
https://www.talkativebangla.com/
https://www.talkativebangla.com/2019/01/politics-and-religious-talk.html
true
4497219040230755502
UTF-8
সকল পোস্ট লোড হয়েছে কোন পোস্ট পাওয়া যায়নি সব দেখুন বিস্তারিত পড়ুন Reply Cancel reply Delete By প্রথম পাতা বাকিটুকু পরবর্তী পাতায় দেখুন POSTS সব দেখুন আপনার জন্য আরও টক টক বিভাগ ARCHIVE আপনি খুজছেন সকল টক আপনার অনুরোধ অনুযায়ী কোন পোস্ট পাওয়া যায়নি। দয়া করে অন্যভাবে চেষ্টা করুন অথবা প্রথম পাতায় ফিরুন Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy