$type=ticker$count=12$cols=4$cate=0

পাবলিক পারসেপসন: ভাবমুর্তির কালো ছায়া

সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের  Correction  অর্থাৎ সংশোধন এর প্রশ্নে “প্রতিটি জেলখানার” “রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” লিখা রয়েছে। কিন্তু কারা কর্ত...

সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের Correction অর্থাৎ সংশোধন এর প্রশ্নে “প্রতিটি জেলখানার” “রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” লিখা রয়েছে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষের এ শ্লোগানের সাথে বাস্তবতার কতটুকু মিল রয়েছে তা ভুক্তভোগী সকলেরই জানার কথা। 
বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। বিচিত্রময় এই বাংলাদেশ। এ দেশে কার ভাগ্যে কি লিখা আছে তা কেহ উপলব্দি করা তো দূরের কথা অনুমানও করতে পারে না। এ দেশে কারাগারের ভাত কখন কার রিজিকে নির্ধারিত রয়েছে তাহাও সকলের উপলব্দি বাহিরে। তবে কারাগারের স্বাদ থেকে অনেক জনপ্রিয় অথবা ইতিহাসের বরপুত্র তথা সুপুত্র কুপুত্র কাউকে রেহায় পায়নি। রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেও কারাগারের স্বাদ উপভোগ করতে হয়েছে, যা থেকে বাদ যায়নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজীবর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহাম্মদ, জেনারেল এরশাদ, শেখ হাছিনা, খালেদা জিয়া যারা দাপটের সহিত দেশ চালিয়েছেন। প্রভাবশালী অন্যতম রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়ার আয়ুশকাল যদি দীর্ঘকাল হতো তবে তার ভাগ্যেও কি জুটতো তা জানি না, তবে জাতি অতি সম্মানের সাথে তার শেষ বিদায় (জানাযা) দিয়েছে। দু’জন রাষ্ট্রপতির রক্তের হোলি খেলেছেন, তারাই যাদের উপর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব অর্পিত ছিল। 

অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার। ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশে আরো অনেকে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে ছিলেন ও আছেন, বিচারপতি শাহাবউদ্দিনের ভাষায় যাদের দায়িত্ব শুধু কবর জেয়ারত ও মিলাদ শরীফে অংশ গ্রহণ করা। ফলে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, মৃত্যুর স্বাদের মত কারাগারের স্বাদ গ্রহণের সময়ক্ষন বলা যায় না। তবে যারা ক্ষমতাহীন রাষ্ট্রপতি, জেলখানা তাদের স্পর্শ করে নাই। তবে রাজনীতিবিদদের কারাগার ততক্ষন পর্যন্ত স্পর্ষ করে না, যতক্ষন পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকে। স্বরন পড়ে ১/১১ সরকারের সময়ের ঘটনা যখন দুই প্রধানমন্ত্রীর (সাবেক ও বর্তমান) সাথে জেলে ছিলাম। তখন শেখ হাছিনা অভিযোগ করে বলে ছিলেন যে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় জোর করে তাকে তুলে নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত ক্যাঙ্গারু কোর্টে হাজির করা হয়। তিনি এটাও অভিযোগ করে ছিলেন যে, তার খাদ্যে স্লো পয়জন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সত্য মেনে নিয়েই প্রশ্ন করছি যে, এ কাজগুলি কে/কাহারা করেছে? যারা স্লো পয়জন দিয়েছেন বা চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটিয়ে শেখ হাছিনাকে ক্যাঙ্গারু কোর্টে জোরপূর্বক হাজির করেছে তারা তো আমেরিকা বা মঙ্গল গ্রহ থেকে আসে নাই। তারাতো জনগণের বেতনভুক্ত এ দেশেরই রাষ্ট্রীয় কর্মচারী। বিচার ব্যবস্থার নামে যখন নির্বতন ও নির্যাতন চলে তখন মানুষের আর্তনাদ বিনাবাক্যে নি:শ্বাসের সাথে বিলিন হয়ে যায়। মানুষ প্রতিবাদের শক্তি সামর্থ হারিয়ে তাকিয়ে থাকে সৃষ্টিকর্তা ও আদালতের দিকে। যখন আদালত নিজ চাকুরী বা অবস্থান ঠিক রাখার জন্য অসহায় মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না তখন অসহায় মানুষ শুধু ভরসা করে সৃষ্টিকর্তার উপর। সৃষ্টিকর্তার উপরই যদি প্রতিটি বিষয়ে ভরসা রাখতে হয় তবে মানুষ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নামে কথিত ব্যবস্থার উপর মানুষ আস্থা রাখবে কেন? প্রধান বিচারপতিকে যেখানে চাপের মূখে দেশ ত্যাগ সহ পদত্যাগ করতে হয় সেখানে বিচার বিভাগের মেরুদন্ড শক্ত রাখার জো কোথায়? 


বিচার ব্যবস্থার সৃষ্টি ইতিহাস যদি আমরা পর্যালোচনা করি তবে দেখা যায় বর্তমান বিচার ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় পরিনত হয়েছে যার দায়িত্ব হলো বিচারপ্রার্থী ছাড়াও জনগণের আস্থা অর্জিত হয় সে বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। 

দেশে দেশে বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশের ও বিবর্তনের ধারা লক্ষ্য করে যদি অতীতের দিকে দৃষ্টিপাত করা যায় তবে দেখতে পাওয়া যায় যে, অতীতে আজকের মতো সুসংগঠিত সমাজ ও বিচার ব্যবস্থা পৃথিবীর কোনো দেশেই বিদ্যমান ছিল না। আদিম মানব অরাজক ও নৈরাজ্যের মধ্যে বাস করত। মানুষ স্বভাবত প্রতিহিংসাপরায়ণ। সে আঘাত পেলে প্রত্যাঘাত করে প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকে। হোমসের মতে মানুষের প্রতিশোধ গ্রহণের সহজাত প্রবৃত্তিই পরিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিস্বরূপ। আদিম সমাজে কোনো লোক অন্য কোন লোকের কার্যের দ্বারা ক্ষুব্ধ হলে সে নিজ ক্ষমতাবলে লড়াই করে প্রতিশোধ গ্রহণ করত। নিজে একা লড়াই করে প্রতিশোধ গ্রহণে অপারগ হলে তার নিজ পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় প্রতিশোধ গ্রহণ করত। যদি পরিবারের সদস্যদের দ্বারা প্রতিশোধ গ্রহণ করতে অক্ষম হতো তখন নিজ গোত্র বা গোষ্ঠীর সদস্যদের সাহায্যে প্রতিশোধ গ্রহণ করত। এক কথায় প্রতিশোধ গ্রহণই তখন প্রতিারের একমাত্র উপায় ছিল। কিন্তু কোনো ব্যক্তির পক্ষে তার পরিবার, গোত্র বা গোষ্ঠী প্রতিশোধ গ্রহণ করত না যদি না তারা বুঝত যে তদ্রুপ প্রতিশোধ গ্রহণের যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। প্রতিশোধ গ্রহণের দ্বারা বিচার করার ব্যবস্থা আদিমকাল হতে চলে আসছে। এই প্রতিশোধ গ্রহণের নীতি রোমান আইনে ‘লেকসটেলিওনিস’ হিসেবে অভিহিত হয়েছে, হামুরাবির আইন ও হযরত মুছার আইনে প্রধান ভ‚মিকা পালন করেছে এবং বর্তমানে প্রচলিত বহু আইনে শাস্তিবিধানের মধ্যে তা লুকায়িত আছে ( সূত্র: বিচার ব্যবস্থার বির্বতন, পৃষ্ঠা-১ এবং হোমস, অলিভার ওয়েগুল, কমন ল লেকচার)।

হোমসের মতে মানুষের প্রতিশোধ গ্রহণের সহজাত প্রবৃত্তিই পরিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। হোমস যখন এ মতবাদ বা তথ্য প্রদান করেছেন তখন ছিল প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ যখন মানুষ সভ্যতার আলো দেখে নাই। এখন তো মানুষ “সভ্যতার” চরম শিখরে অতিক্রম করছে। চাঁদের দেশে বা মঙ্গলগ্রহে মানুষ যখন আবাসন করার চেষ্ঠায় মগ্ন সে মুহুর্তে বিচার ব্যবস্থা প্রতিশোধ পরায়ন হবে কেন?


বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে চিন্তাশীল গবেষকগণ ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করার জন্য মন্তব্য করে বলেছেন যে, PPCC অর্থাৎ (১) P (Police),  (২) P (Prosecution), (৩) C (Court) এবং (৪) C (Correction). পুলিশ বা প্রসিকিউশন মানে এই নয় যে, সরকার পছন্দ করে না এমন কোন ব্যক্তিকে ফাসানোর জন্য মিথ্যা এজাহার, মিথ্যা স্বাক্ষী, জ্বাল কাগজপত্র তৈয়ারসহ যত ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করতে হবে, দু:ক্ষজনক হলেও ইহাই সত্য যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রসিকিউশন মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে, বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলায়। কোর্টের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে হয় যে, দু:খজনক এ কারণে যে, ভ‚তপূর্ব প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে, “নিম্ন আদালত মানে আইন মন্ত্রণালয়” অর্থাৎ আইন সচিব দ্বারা নির্দেশিত হয়েই নিম্ন আদালতের বিচার প্রর্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের Correction অর্থাৎ সংশোধন এর প্রশ্নে “প্রতিটি জেলখানার” “রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” লিখা রয়েছে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষের এ শ্লোগানের সাথে বাস্তবতার কতটুকু মিল রয়েছে তা ভুক্তভোগী সকলেরই জানার কথা। 

দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ১৯৭১ ইং সনের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র রূপে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় “সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল পাবলিক পারসেপসনের উপর ভিত্তি করে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের জামিনের শানানীকালে মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে, “আমরা পাবলিক পারসেপনের দিকে তাকাই না।” যদি তাই হয় তবে জনমত কি খুবই গুরুত্বহীন? বিচার বিভাগের উপর জনগণের আস্থা পরিপূর্ন করতে হলে পাবলিক পাসেপশন অবশ্য অবশ্যই গুরুত্ব বহন করে। বিচার বিভাগ প্রতিপক্ষকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হওয়ার অভিযোগ অনেক পূর্ব থেকেই। এ অবস্থা থেকে বিচার বিভাগকে উত্তরনের দ্বায় প্রথম গ্রহণ করতে হবে প্রধান বিচারপতিকেই। বিচার বিভাগ সুধু স্বাধীন নয়, বিবেকমান বিচার বিভাগ প্রমানের এখনই সময়। সরকার একতরফা নির্বাচনের মজা পেয়েগেছে, যেমন-যে বাঘ রক্তের স্বাধ পেয়েছে, সে রক্তের সন্ধান করবে এটাই স্বাভাবিক। যারা একতরফা নির্বাচনের সরকার গঠনের স্বাধ পেয়েছে তারা পুনরায় তাই করবে। এ অবস্থায় জাতির পাশে থাকার জন্য অর্থাৎ জনগণ যাতে তাদের ভোটাধিকার সুষ্টভাবে প্রয়োগ করতে পারে এ জন্য সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির ভূমিকা হতে হবে অত্যান্ত জোড়ালো, কারণ তিনি সুপ্রীম কোর্টের নয়, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি।  (তারিখঃ  22/03/2018)

পোস্টটি লিখেছেন- তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।   
সুপ্রিয় পাঠক, পোস্টটি সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থাকলে নিচে মন্তব্যের ঘরে জানাতে পারেন। এছাড়া আমাদের ব্লগে লিখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

COMMENTS

BLOGGER
নাম

অদ্ভুতুড়ে টক,2,অর্থ ও বাণিজ্য,3,আইন আদালত,22,আইন যোদ্ধা,1,আইন শৃঙ্খলা,1,আদালতে হাতেখড়ি,5,আফসার হাসান,2,ইতিহাস ও ঐতিহ্য,3,ইসলাম,2,ঈমান,1,উপন্যস,2,এডভোকেট আজাদী আকাশ,57,এডভোকেট আনিসুর রহমান,4,এডভোকেট খোরশেদ আলম,1,এন্ড্রয়েড,1,কবিতা,19,কাজী নজরুল ইসলাম,2,খেলাধুলা,1,গল্প,8,জীবনানন্দ দাস,1,তাবলীগ জামাত,1,তৈমূর আলম খন্দকার,6,দেওয়ানী আইন,9,ধর্মীয় টক,9,নারী অধিকার,1,নির্বাচন,3,নির্বাচিত টক,14,নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী,1,প্রকৃতি,1,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,1,ফৌজদারি আইন,16,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,6,বিনোদন,2,বিবাহ,1,বিশেষ টক,7,ব্লগ,1,ভ্রমণ টক,2,মুক্ত টক,1,মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম,1,যৌতুক,1,যৌন নির্যাতন,1,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,3,রম্যরচনা,1,রাজনীতি,11,রীট,1,রুদ্র রায়হান,9,রুবেল রানা,1,রেসিপি,2,লাইফস্টাইল,2,শিক্ষা,4,সম্পাদকীয় টক,16,সাহিত্য,22,সুকুমার রায়,3,স্বাস্থ্য টক,4,
ltr
item
Talkative Bangla- এসো বাংলায় মাতি উল্লাসে | বাংলা সোস্যাল ব্লগ সাইট : পাবলিক পারসেপসন: ভাবমুর্তির কালো ছায়া
পাবলিক পারসেপসন: ভাবমুর্তির কালো ছায়া
https://3.bp.blogspot.com/-A4kPA8rJGGc/XDOMAsCmR-I/AAAAAAAABWw/iC5_77sAFewDt-lMcBTXQ851FnHoILiggCPcBGAYYCw/s1600/talkative%2Bbangla.jpg
https://3.bp.blogspot.com/-A4kPA8rJGGc/XDOMAsCmR-I/AAAAAAAABWw/iC5_77sAFewDt-lMcBTXQ851FnHoILiggCPcBGAYYCw/s72-c/talkative%2Bbangla.jpg
Talkative Bangla- এসো বাংলায় মাতি উল্লাসে | বাংলা সোস্যাল ব্লগ সাইট
https://www.talkativebangla.com/2019/01/politics-public-perception.html
https://www.talkativebangla.com/
https://www.talkativebangla.com/
https://www.talkativebangla.com/2019/01/politics-public-perception.html
true
4497219040230755502
UTF-8
সকল পোস্ট লোড হয়েছে কোন পোস্ট পাওয়া যায়নি সব দেখুন বিস্তারিত পড়ুন Reply Cancel reply Delete By প্রথম পাতা বাকিটুকু পরবর্তী পাতায় দেখুন POSTS সব দেখুন আপনার জন্য আরও টক টক বিভাগ ARCHIVE আপনি খুজছেন সকল টক আপনার অনুরোধ অনুযায়ী কোন পোস্ট পাওয়া যায়নি। দয়া করে অন্যভাবে চেষ্টা করুন অথবা প্রথম পাতায় ফিরুন Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy